April 19, 2026, 11:49 am

রূপগঞ্জে প্রবাসী মাসুম হত্যা: র‌্যাবের হাতে অন্যতম আসামি শাকিল গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) নিহতের ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি শাকিল মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের গ্রেফতারে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনআস্থা অর্জন করেছে র‌্যাব।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ ২০২৬, সোমবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলার টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম মিয়া ওই এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে।

জানা যায়, মাসুম মিয়া ও ভোলাবো এলাকার রাজু সৌদি আরবে একসঙ্গে অবস্থানকালে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল। দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন মাসুম মিয়া মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে টাওরা মধ্যপাড়া সড়কে রাজুসহ শাকিল ও অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-১ উত্তরা’র যৌথ অভিযানে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী মেট্রোরেল স্টেশন (উত্তরা উত্তর) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার সন্দেহভাজন আসামি শাকিল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

নিজস্ব প্রতিনিধি :

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা